বাংলাদেশ এ নেয়া প্রতিটা নিঃশ্বাসের দায়বদ্ধতা থেকে আর ক্ষণিকের মানসিক শান্তি লাভের আশায় আমার লেখার তরীর যাত্রা শুরু এখান থেকে।আশা করি তরী নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছুবার আগে থামবেনা। সৌভাগ্যক্রমে আমার প্রথম লেখাটা শুরু এমন এক দিনে,যেদিন স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাংগালী।
১৯৭১ থেকে ২০১০ পার হয়ে গেছে আটত্রিশ বছর। স্বাধীনতা স্বাদ সম্পূর্ণ না পেলেও পরাধীনতার গ্লানি এখন আমাদেরকে আর বয়তে হয়না।এখন কেঊ এসে পারে না ধর্মের দোহাই দিয়ে আমাদের সংস্কৃতিতে নগ্ন হস্তক্ষেপ করতে,পারে না আমাদের প্রতিবাদী কলমকে রুখে দিতে,পারে না আমাদেরকে ভাতের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে।তারপরও আমরা পৌছুতে পারি নাই সেই জায়গাতে যেখানে যেতে বঙ্গবন্ধু সপ্ন দেখতেন,সাত কোটি মানুষকে সপ্ন দেখাতেন।কিন্তু সব সপ্ন পূরণের জন্য নয় বা পূরণ করতে দেয়া হয় না।১৯৭৫ সাল এর পর থেকে দেশীয় হায়েনারা বিষ দাঁতের কামড় বসিয়েছিল বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানে,রাজাকারদের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করে দেশের মাটিকে করেছিল কলুষিত আর সাথে সাথে চালিয়েছিল অপপ্রচার।এভাবে এদেশের মানুষ হয়েছিল বিভ্রান্ত ।সরে এসেছিল নিজেদের স্বকীয়তা থেকে। আচ্ছাদিত করেছিল হায়েনাদের ছলচাতুরী।এভাবেই কেটে গেল ১৬টি বছর।
১৯৯১ সালঃ গণতন্ত্রের পথে আবার যাত্রা শুরু।আবারও স্বপ্ন দেখা শুরু।৭১ এর পর সকল বাংগালী আজ একই প্লাটফরমে।এবার আমাদের অগ্রযাত্রাকে কেঊ আর রুখতে পারবে না।
নির্বাচন ২৭ ফেব্রুয়ারী।অনেকের ধারনা ছিল ১৮ বছর পর আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসতেছে।কারন সে দলের নেতৃত্বে এখন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। কিন্তু সে ধারনা ভুল প্রমাণিত হল ২৭ ফেব্রুয়ারী রাতেয়।
বাংলাদেশের মানুষ এখনও পারে নাই অপপ্রচারের বেড়াজাল ছিন্ন করতে।যদিও আওয়ামীলীগ পেয়েছিল ৩০.০৮% ভোট যেখানে বি এন পি পেয়েছিল ৩০.৮১%।
ক্ষমতায় এসে বিএনপি হয়ে উঠল হিংস্র। চারিদিকে অস্ত্র এর ঝনঝনানি।ক্ষমতার মেয়াদ শেষের দিকে।শুরু হয় ক্ষমতা আকড়ে ধরার ষড়যন্ত্র।সাথে সাথে শুরু হয় সর্বদলীয় আন্দোলন।নেতৃত্বে যেহেতু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেহেতু এ আন্দোলন ব্যর্থ হবার নয়।
কিন্তু অপর পক্ষে আছেন আপোষহীন নেত্রীর তকমা লাগানো বেগম খালেদা জিয়া।যে কোন উপায়ে তাকে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতেই হবে।কারণ দলটির সৃষ্টি হয়েছেতো ক্ষমতার লোভ আর বিশ্বাসঘাতকতা থেকে।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী।বাংলাদেশের গনতন্ত্রের কালোদিন।বাংলাদেশের গনতন্ত্র নতুন করে চলার পথে পাঁচ বছরের মাথায় হোঁচট খেলো।কিন্তু গনতন্ত্র এর মানস কন্যা যেখানে আছেন সে দেশে গনতন্ত্র কে স্থায়ী ভাবে কেউ নস্যাৎ করতে পারবে না।
জয় হল হাসিনার এবং এদেশের আন্দোলনরত মানুষের।২৭৮ সিট নিয়েও ক্ষমতাই থাকতে পারল না বিএনপি।
১৯৯৬ সাল ১২ জুনঃ
এটি একমাত্র নির্বাচন যার ফলাফল আগে থেকেই জানা ছিল সবার।২৩ বছর পর ক্ষমতাতে আসবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। ধরাশায়ী হবে বিএনপি কিন্তু ফলাফল দেখে সবাই অবাক। বিএনপি পেল ১১৬ সিট আর ৩৩.৬০% মানুষের সমর্থন।এত কিছুর পরও মানুষ আওয়ামীলীগকে বিশ্বাস করতে পারেনি।ক্ষমতায় গেলেও আওয়ামীলীগকে সমর্থন করেছে মাত্র ৩৭.৪৪% মানুষ।
প্রধান মন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা।এর পরের আমার লেখার মত আর কিছু নাই।কারন সৃতিতে ঐ দিনগুলা সবার ই ঊজ্বল।সন্ত্রাস দমনে সফল হলেও হাজারী,ডাঃ ইকবাল এর মত নেতাদের জন্য তা ম্লান হয়ে যায়। আর সবক্ষেত্রে সফলতার চিহ্ন রাখতে সক্ষম হয়ে ছিল শেখ হাসিনার সরকার।
২০০১ :
এই প্রথম বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন সরকার শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করল। বিএনপি বুঝতে পেরেছিলো এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব না।সেজন্য জোটবদ্ধ হল । সাথে নিল ৭১ এর রাজাকারদের।আওয়ামীলীগকে হারানোর হাতিয়ার হিসাবে বেছে নিল ধর্ম কে। সারাদেশ ঢেকে গেল নোংরা পোষ্টার এ।মানুষকে সচেতন করার মত ইলেকট্রনিক মিডিয়াও ছিল না দেশে।ফলাফলঃ-নোংরা প্রচারণা মানুষকে বিভ্রান্ত করল।
তারপরও শেখ হাসিনা বিশ্বাস রাখলেন এ দেশের মানুষের উপর। নীতিতে অটল থেকে জোটবদ্ধ হলেন না কোন দলের সাথে।
পহেলা অক্টোবরঃ
দিনটির কথা এখনো মনে আছে।আমি ছাড়া বাড়ি সবাই আওয়ামীলীগ এর সমর্থক।সত্য বলতে আমি তখন রাজনীতি সম্পর্কে কিছু জানতাম না। জানার জন্য আগ্রহ ছিল কম।আমি ঘুমিয়ে পরে ছিলাম।সকালে উঠে শুনতে পারি বিএনপি জামায়াতের বিশাল বিজয়ের কথা।কিন্তু সে নির্বাচনে সত্যি কি আওয়ামীলীগ পরাজিত হয়েছিল?
যতই কারচুপির কথা বলা হোক না কেন আমি মনে করি নির্বাচন ফলাফল ঠিক ছিল।আওয়ামীলীগ হেরেছিল জোটের রাজনীতিতে ভোটের রাজনীতিতে না।এর ব্যাখা পরের লেখাগুলাতে দেবার চেষ্টা করব।
২০০১-২০০৬ :
সবার ই জানা।তাই এক কথায় বলতে চায়———–আর কোন খারাপ কাজ করতে বাকি রাখেনি বিএনপি-জামায়াত জোট—————
২০০৮ :
দিন বদলের স্বপ্ন দেখালেন শেখ হাসিনা। এ বার আর অপপ্রচারে কাজ হল না।কারন মানুষ এখন অনেক সচেতন।২০০১ এর মত ভুল করলামনা আমরা।২৯ ডিসেম্বর আমার আনন্দের দিনগুলার একদিন।৫৭% মানষের সাথে আমিও স্বপ্ন দেখলাম দিন বদলের।দৃষ্টি তখন ২০২১ সালের দিকে।ভেবেছিলাম এমন বাংলা দেখবো যে বাংলায় কেউ পাপ করবে না অথবা পাপ করে রেহাই পাবে না।
স্বপ্নের আকাশ থেকে মাটিতে নামতে আমার বেশিদিন সময় লাগেনি।আমি এখন স্বপ্নবাজ না,বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমি এখন নদীর পানিতে ভেসে যাওয়া খঁড়কুটা।আমি এখন আর আশায় বুক বাঁধিনা যে, ছাত্রলীগের কর্মকান্ড বন্ধ হয়ে যাবে।স্বপ্ন দেখিনা দুর্নীতি মুক্ত,ক্ষুদা মুক্ত বাংলাদেশের।আশা করি না হানাহানি মুক্ত রাজনীতির,স্বপ্ন দেখি না আমার উজ্বল ভবিষৎ এর।
তবে বিশ্বাস করি আওয়ামীলীগ কখনো জামায়তের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে আমাদের স্বাধিনতা কে ভুলন্ঠিত করবে না।আশা করি— “মুক্তিযুদ্ধ না ৭১ এ গৃহযুদ্ধ হয়েছিল” এ ধরনের কথা বলে ধৃষ্টতা দেখানো অমানুষগুলোর বিচার হবে।এখনো বিশ্বাস করি আওয়ামীলীগ শাসন আমলে কোন কিবরিয়া,আহসান উল্লাহ মাষ্টার কে প্রতিপক্ষের ধ্বংসাত্বক রাজনীতির কারনে জীবন দিতে হবেনা আর সনাতন ধর্মাবলীরা নিজেদের কে সংখ্যালঘু মনে করবেন না।
আরো বিশ্বাস করি এ পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আর কোন ২১ আগষ্ট আসবে না। ফুলবাড়ি,শিবগঞ্জের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে।তাদের কে আর আন্দোলন করতে হবে না। আন্দোলন করলেও এ স্বাধীন বাংলাদেশে তাদেরকে পুলিশ এর গুলি খেয়ে শহীদ হতে হবেনা।আর আশা করি শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।
২০১৪ সালে নির্বাচনে কে জিতবে জানি না।হইত শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হবেন অথবা খালেদা জিয়া ।মানুষ ভুলে যাবে ২০০১-২০০৬ কথা।এমনও হতে পারে ২০০৯-২০১৩ সাল তাদেরকে ভুলিয়ে দেবে পাঁচ বছর আগের স্মৃতি।কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া কখনো পারবেননা জামায়াতের মায়াজাল ছিন্ন করতে।হয়ত একদিন পারবেন কিন্তু সেদিন অনেক দেরি হয়ে যাবে।ধ্বংস হয়ে যাবে আমাদের স্বাধীনতার চেতনা।
হয়ত মানুষ সব কিছু ভুলে আবারো রাজাকারদের ক্ষমতায় আনবে।তখন তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রাখা আর চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না আমার। কিন্তু আমি তখনও আওয়ামীলীগ কে সমর্থন করবো।কারন—————
আমি যে নিরুপায়

Posted by rizel on জানুয়ারি 12, 2010 at 7:28 অপরাহ্ন
go ahead………………..
Posted by Mahmud faisal on জানুয়ারি 13, 2010 at 12:08 পুর্বাহ্ন
সপ্ন –> স্বপ্ন
পুর্ণবাসিত –> পুনর্বাসিত
বানানগুলো একটু দেখবেন…
লেখায় দেশপ্রেম স্পষ্ট… চালিয়ে যান
Posted by iamsrijon on জানুয়ারি 22, 2010 at 4:41 পুর্বাহ্ন
i like it as it’s informative
Posted by rizel4all on জানুয়ারি 25, 2010 at 1:52 পুর্বাহ্ন
শেষ প্যারার আগের প্যারায় ভুল আছে মনে হচ্ছে। তবে এই প্যারাটার সব ভবিষ্যত সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে দেশের মঙ্গল হবে। আরও আশা করি আওয়ামীলীগ ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে একটা ভাল অবস্থানে নিয়ে যাবে।
লেখায় বানান ভুল সামনে আর থাকবেনা আশা করি। go ahead…….
**এই থিমটা ভাল না। চোখে লাগে। change it plz.
Posted by tahazzattaaha on জানুয়ারি 25, 2010 at 2:29 পুর্বাহ্ন
শেষ অংশটুকু (২০০৮)আবার পড়ুন।কারন আমি তেমন কোন আশার কথা বলি নাই যা পূরণ করতে পারলে দেশ একটা ভাল অবস্থানে যাবে।
Posted by Mahmud faisal on ফেব্রুয়ারি 2, 2010 at 3:37 অপরাহ্ন
ত্বাহা,
তোমার এই ভাবনাগুলো দেখে খুব ভালো লাগলো…
অন্ততঃ এরকম ভাবনা হয়ত তোমাকে আর অন্য কয়জন টিপিক্যাল বাংলাদেশীর মতন কাজ করা থেকে বিরত রাখবে। এটাই দরকার…
ভালো থেকো, স্বাপ্নিক থেকো
Posted by সদরে-আলা পারভেজ on ফেব্রুয়ারি 19, 2010 at 2:34 পুর্বাহ্ন
** ভারি চমৎকার সাবলীল লেখা।
** আমি রাজনীতি ভালো বুঝি না, মন্তব্য করতে যাওয়া বাতুলতা, তারপরও কোনো দলের প্রতি অন্ধভক্তি দেখানো হয়ে গেলো না? চোখ বুজে নিষ্ক্রিয় থাকা ভাল কিন্তু যখন সক্রিয় ভাবে কোনো কিছু করতে যাওয়া বা করতে চাওয়া হচ্ছে তখনো কেন চোখ-কান বন্ধ রাখা?
** আমরা যখন কাউকে বিশ্বাস করি ( ব্যাক্তি বা দল যাই হোক ) তখন তার বিচ্যুতিতে আশাহত হলে চলবে কেন? যার যার নিজের অবস্থান থেকে তাকে সংশোধন করার চেষ্টা তো করতে হবে। তুমি তা করছ দেখে ভালো লাগলো।
Posted by মুক্ত বিহঙ্গ on ফেব্রুয়ারি 19, 2010 at 2:50 পুর্বাহ্ন
আমার দুইটা option আছে । আওয়ামীলীগ আর বি.এন.পি। আওয়ামীলীগ সরকার যদি বিগত বি.এন.পি সরকার থেকে খারাপ কাজ করে তবে অবশ্যই আমি পরবর্তী নির্বাচন এ বি.এন.পি কে সমর্থন দেবো যদি তারা জামায়াতের সাথে সকল সর্স্পক ছিন্ন করে। আসলে রাজাকারদের মন্ত্রি বানানোর ফলে আমার ভিতরের সৃষ্ট ক্ষোভের ফলে লেখাটা একপেশে হয়ে গেছে।