অনেকে হয়ত জানে, তারপরও যারা না জানে তাদের জন্য এ লেখা।সবাই করে কিনা জানিনা, তবে অন্যান্য জেলার বন্ধুদের সাথে আমি প্রায় তর্ক করি নিজ জেলা নিয়ে।যেমন আমার জেলা যশোর।আমি সবসময় গর্ব করে বলি ১৯৭১ এ আমরাই প্রথম শত্রু মুক্ত হয়,অবিভক্ত বাংলার প্রথম জেলা যশোর।এখানকার খেজুরের রস আর কই মাছ বাংলাদেশ কেন সারা দুনিয়াতে মিলবে না।এখানে উন্নত একধরনের মিষ্টি পাওয়া যায় যার নাম জামতলার মিষ্টি।
মিষ্টির কথা বললেই টাঙ্গাইলের বন্ধু হাসানের বকবকানি শুরু হয়ে যায়।আমাদের পোড়াবাড়ির চমচম যদি একবার খাইতিস!!!!!!!!!! একে মিষ্টির রাজা বলে।পোড়াবাড়ির এই চমচম সারাদেশে স্বমহিমায় মহমান্বিত। যার নাম শুনলেই অতুলনীয় স্বাদ ও অর্পূব গন্ধের কথা মনে করে জিহবায় পানি এসে যায়।
সত্যি সত্যি ওর মুখে জল এসে যায়।ওর সাথে যোগ দেয় ঐ অঞ্চলের সবাই।ভাবখানা এমন যে মিষ্টির স্বাদ এখনও মুখে লেগে আছে।ওদের অনুভুতি দেখে আমি চুপ মেরে যায়।কারন আসলেই জামতলার মিষ্টি কোন মিষ্টি না,মিষ্টি নামের প্রহসন।
সবাই যখন চুপ,তখন গাজিপুরের বন্ধু অমিত চমচমের সাথে ওদের কাঁঠালের তুলনা করলে আবারো হাসির রোল পড়ে যায়।
উপরের সব চরিত্র কাল্পনিক।আসলে আমরা তর্ক করলেও আমরা জানি,চমচমের মিষ্টির স্বাদ শুধু টাঙ্গাইলবাসী না সবার মুখে জল আনে।প্রথম শত্রু মুক্ত হবার গর্ব শুধু যশোরবাসীর না,সারা বাংলাদেশের।গাজিপুরের কাঁঠালও বাংলাদেশের জাতীয় ফল।
আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।কিন্তু আমরা বাংলাদেশ সম্পর্কে কতটুকু জানি।এতে আমাদের খুব বেশী দোষ নাই কারন আমাদের জানার তেমন কোন উৎস ছিল না।আমি আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে এখন আর wekepedia,google এ গিয়া নিজ জেলার নাম লিখে সার্চ দিতে হবে না।আর limited information দেখে হতাশ হতে হবে না।
কারন ৬ জানুয়ারী বাংলাদেশের সব জেলার তথ্য নিয়ে জেলা বাতায়ন নামের ওয়েবসাইট উদ্বোধন হয়েছে।এখানে আপনি আপনার জেলার পটভূমি,ভৌগলিক প্রোফাইল,শিল্প ও বাণিজ্য,পত্র পত্রিকা, খেলাধূলা ও বিনোদন,ভাষা ও সংস্কৃতি,খনিজ সম্পদ,যোগাযোগ ব্যবস্থা,মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা,প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব, জন প্রতিনিধিদের সর্ম্পকে জানতে পারবেন।
শুধু তাই না আপনি যদি কোন জেলা ভ্রমণে যাইতে চান আর সেজন্য ট্রেনের টিকিট আর ঐ জেলার হোটেলের আগাম বুকিং দিতে চান তাও পারবেন।কারন এ সাইটে প্রত্যেক জেলার হোটেল,বিদ্যালয়,জনপ্রতিনিধি,জেলাপ্রশাসক,হাসপাতাল,র্যাব,পুলিশ সবার ফোন নাম্বার আছে।
আপনি ঐ সাইট ভিজিট করতে চাইলে www.dcআপনার জেলারনাম.gov.bd লিখবেন। যদি রাজশাহীর কোন বন্ধু ঢাকা সর্ম্পকে জানতে চাও তবে তুমি লিখবা
www.dcdhaka.gov.bd
একটা ঘটনা আর একটা ছবি দিয়ে আমি আমার লেখা শেষ করব।প্রথমে ঘটনা বলি………….
বাংলাদেশের জমজমের কূপ ও ঝরণা কয়জন দেখেছি?কিভাবে এটা সৃষ্টি তার ইতিহাস কয়জন ই বা জানি?আমিও জানতাম না।এ সাইট থেকে জেনেছি। একদা হযরত শাহজালাল(র:) একটি কূপ খনন করার আদেশ দিলেন এবং প্রার্থনা করলেন আল্লাহ যেন এই কূপটিকে জমজমের কূপটির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেন। এরপর তিনি লাঠি দিয়ে মাটির ওপর আঘাত করলেন আর সঙ্গে সঙ্গে এই কূপটির সাথে জমজমের কূপের মিলন ঘটে গেল। আল্লাহর ক্ষমতার বদৌলতে এই কূপে সোনা ও রুপার রঙের মাছের জন্ম হয় যা আজো এই কূপের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। তারপর এর চারপাশ পাকা করে দেওয়া হলো এবং উত্তর পার্শ্বে দুটি পাথর বসিয়ে দেওয়া হলো-যা থেকে দিনরাত পানি প্রবাহিত হয়। রোগীরা এই পানি পান করে আরোগ্য লাভ করে। রোজাদারেরা এই পানি দ্বারা ইফতার করে। হযরত শাহজালাল(র:) এর মাজারের পশ্চিম দিকে গেলে ঝরনাটি পাওয়া যায়। ঝরনার পানি বোতল ভর্তি করে বিক্রি করা হয়।
এরকম অজানা অনেক তথ্য এবং ছবি আপনি ঐ সাইট থেকে download করতে পারবেন।
দেশকে ভালবাসুন।তার আগে দেশকে ভালভাবে দেখুন এবং দেশ সম্পর্কে জানুন।তাহলে দেশকে না ভালবেসে পারবেন না।


Posted by হ্যাকারদের নজরে বাংলাদেশ « Tahazzat Taaha's Blog on মার্চ 20, 2010 at 5:38 অপরাহ্ন
[...] করেছিলাম আমার লেখা দ্বিতীয় ব্লগ “এক নজরে বাংলাদেশ“।আজ শিরোনামটা একটু পরিবর্তন [...]