হ্যাকারদের নজরে বাংলাদেশ

অনেকে হয়ত জানে, তারপরও যারা না জানে তাদের জন্য এ লেখা।ঠিক এভাবেই শুরু করেছিলাম আমার লেখা দ্বিতীয় ব্লগ “এক নজরে বাংলাদেশ“।আজ শিরোনামটা একটু পরিবর্তন করলাম।কারন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ০৬ জানুয়ারি দেশের ৬৪ জেলার ওয়েব পোর্টাল বা জেলা তথ্য বাতায়ন উদ্বোধন করার আড়াই মাসের মাথায় হ্যাক হয়ে গেল সাইটটি।

খুলনা, রংপুর, ফেনী, কক্সবাজার, দিনাজপুরসহ ১৯টি জেলার ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে অসভ্য দেশের অমানুষদের সংগঠন ‘এমআইএল ইন্ডিয়ান হ্যাকার’।

এসব জেলার পেজ এ ক্লিক করলে  “secure border between INDIA and BANGLADESH If any terrorist send by pakistan came via Bangladesh route then I will be danger to YOU Cyber War will be started thses is demo We don’t want more 26/11 in India .GOVERMENT LOOK AT IT ELSE CYBER WAR WILL START ….
WE ROOTED AND FCUK YOUR ISP !”
বার্তাটি দেখা যায়।

ধন্যবাদ ভারতের জারজদের কারন শুরুতেই আমদের সাইট এর দুর্বল দিকগুলা ধরিয়ে দেবার জন্য।সরকার যেন পরবর্তীতে সাইটের নিরাপত্তার দিকগুলা বিবেচনা করে।

Advertisements

আর একবার কালিগোলা পথে

আর একবার কালিগোলা পথে
সদরে আলা পারভেজ

অমাবস্যা রাতে,বহুদুর যেতে হবে।
ভাবছ,রাস্তায় আমার অপেক্ষায়
সোডিয়াম আলোর খাম্বা দাঁড়িয়ে রবে?
ভুল,সে পথ ঢাকা মাতৃগর্ভের মত তমস্যায়।
ভেবো না যে আমি অনভিজ্ঞ,এবারই প্রথম,
এমন বহুপথ আমি হেঁটেছি ,ছমছমে গায়ে
জানো তো কালো অন্ধকারে অনেক রকম
ভয় আতঙ্ক শরীর জড়াজড়ি করে থাকে দাঁড়ায়ে
অচেনা পথিক,গাঢ় ছায়ার মত আসে
ধুকপুক হৃদপিন্ড হঠাৎ থেমে থেমে যায়
সে পথিকই যখন হাঁটে পাশে পাশে
মনে হয় বহুদিন একসাথে হাঁটছি দুজনায়।

তারপর পথশেষে ক্ষীণ আলোর রেখা,
যেখানে পৌঁছাব বলে আমি পথে নেমেছি-
সমস্ত ভয়ংকরত্ব উপেক্ষা করে,একা।
সে আলোর মাঝখানে এসে আমি থেমেছি।
কিন্তু বোঝো তো,আগেই তো বলা-
এবারের পথ আরও দীর্ঘ,আরও বন্ধুর,আরও অন্ধকার
এবারের পথে এবারই প্রথম চলা-
আরও একবার এ তমস্যা হতে হবে মোর পার।

এক নজরে বাংলাদেশ

অনেকে হয়ত জানে, তারপরও যারা না জানে তাদের জন্য এ লেখা।সবাই করে কিনা জানিনা, তবে অন্যান্য জেলার বন্ধুদের সাথে আমি প্রায় তর্ক করি নিজ জেলা নিয়ে।যেমন আমার জেলা যশোর।আমি সবসময় গর্ব করে বলি ১৯৭১ এ আমরাই প্রথম শত্রু মুক্ত হয়,অবিভক্ত বাংলার প্রথম জেলা যশোর।এখানকার খেজুরের রস আর কই মাছ বাংলাদেশ কেন সারা দুনিয়াতে মিলবে না।এখানে উন্নত একধরনের মিষ্টি পাওয়া যায় যার নাম জামতলার মিষ্টি।
মিষ্টির কথা বললেই টাঙ্গাইলের বন্ধু হাসানের বকবকানি শুরু হয়ে যায়।আমাদের পোড়াবাড়ির চমচম যদি একবার খাইতিস!!!!!!!!!! একে মিষ্টির রাজা বলে।পোড়াবাড়ির এই চমচম সারাদেশে স্বমহিমায় মহমান্বিত। যার নাম শুনলেই অতুলনীয় স্বাদ ও অর্পূব গন্ধের কথা মনে করে জিহবায় পানি এসে যায়।
সত্যি সত্যি ওর মুখে জল এসে যায়।ওর সাথে যোগ দেয় ঐ অঞ্চলের সবাই।ভাবখানা এমন যে মিষ্টির স্বাদ এখনও মুখে লেগে আছে।ওদের অনুভুতি দেখে আমি চুপ মেরে যায়।কারন আসলেই জামতলার মিষ্টি কোন মিষ্টি না,মিষ্টি নামের প্রহসন।
সবাই যখন চুপ,তখন গাজিপুরের বন্ধু অমিত চমচমের সাথে ওদের কাঁঠালের তুলনা করলে আবারো হাসির রোল পড়ে যায়।
উপরের সব চরিত্র কাল্পনিক।আসলে আমরা তর্ক করলেও আমরা জানি,চমচমের মিষ্টির স্বাদ শুধু টাঙ্গাইলবাসী না সবার মুখে জল আনে।প্রথম শত্রু মুক্ত হবার গর্ব শুধু যশোরবাসীর না,সারা বাংলাদেশের।গাজিপুরের কাঁঠালও বাংলাদেশের জাতীয় ফল।
আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।কিন্তু আমরা বাংলাদেশ সম্পর্কে কতটুকু জানি।এতে আমাদের খুব বেশী দোষ নাই কারন আমাদের জানার তেমন কোন উৎস ছিল না।আমি আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে এখন আর wekepedia,google এ গিয়া নিজ জেলার নাম লিখে সার্চ দিতে হবে না।আর limited information দেখে হতাশ হতে হবে না।
কারন ৬ জানুয়ারী বাংলাদেশের সব জেলার তথ্য নিয়ে জেলা বাতায়ন নামের ওয়েবসাইট উদ্বোধন হয়েছে।এখানে আপনি আপনার জেলার পটভূমি,ভৌগলিক প্রোফাইল,শিল্প ও বাণিজ্য,পত্র পত্রিকা, খেলাধূলা ও বিনোদন,ভাষা ও সংস্কৃতি,খনিজ সম্পদ,যোগাযোগ ব্যবস্থা,মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা,প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব, জন প্রতিনিধিদের সর্ম্পকে জানতে পারবেন।
শুধু তাই না আপনি যদি কোন জেলা ভ্রমণে যাইতে চান আর সেজন্য ট্রেনের টিকিট আর ঐ জেলার হোটেলের আগাম বুকিং দিতে চান তাও পারবেন।কারন এ সাইটে প্রত্যেক জেলার হোটেল,বিদ্যালয়,জনপ্রতিনিধি,জেলাপ্রশাসক,হাসপাতাল,র‌্যাব,পুলিশ সবার ফোন নাম্বার আছে।
আপনি ঐ সাইট ভিজিট করতে চাইলে http://www.dcআপনার জেলারনাম.gov.bd লিখবেন। যদি রাজশাহীর কোন বন্ধু ঢাকা সর্ম্পকে জানতে চাও তবে তুমি লিখবা
http://www.dcdhaka.gov.bd

একটা ঘটনা আর একটা ছবি দিয়ে আমি আমার লেখা শেষ করব।প্রথমে ঘটনা বলি………….

বাংলাদেশের জমজমের কূপ ও ঝরণা কয়জন দেখেছি?কিভাবে এটা সৃষ্টি তার ইতিহাস কয়জন ই বা জানি?আমিও জানতাম না।এ সাইট থেকে জেনেছি। একদা হযরত শাহজালাল(র:) একটি কূপ খনন করার আদেশ দিলেন এবং প্রার্থনা করলেন আল্লাহ যেন এই কূপটিকে জমজমের কূপটির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেন। এরপর তিনি লাঠি দিয়ে মাটির ওপর আঘাত করলেন আর সঙ্গে সঙ্গে এই কূপটির সাথে জমজমের কূপের মিলন ঘটে গেল। আল্লাহর ক্ষমতার বদৌলতে এই কূপে সোনা ও রুপার রঙের মাছের জন্ম হয় যা আজো এই কূপের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। তারপর এর চারপাশ পাকা করে দেওয়া হলো এবং উত্তর পার্শ্বে দুটি পাথর বসিয়ে দেওয়া হলো-যা থেকে দিনরাত পানি প্রবাহিত হয়। রোগীরা এই পানি পান করে আরোগ্য লাভ করে। রোজাদারেরা এই পানি দ্বারা ইফতার করে। হযরত শাহজালাল(র:) এর মাজারের পশ্চিম দিকে গেলে ঝরনাটি পাওয়া যায়। ঝরনার পানি বোতল ভর্তি করে বিক্রি করা হয়।

এরকম অজানা অনেক তথ্য এবং ছবি আপনি ঐ সাইট থেকে download করতে পারবেন।

দেশকে ভালবাসুন।তার আগে দেশকে ভালভাবে দেখুন এবং দেশ সম্পর্কে জানুন।তাহলে দেশকে না ভালবেসে পারবেন না।

নিরুপায় আমি…………

বাংলাদেশ এ নেয়া প্রতিটা নিঃশ্বাসের দায়বদ্ধতা থেকে আর ক্ষণিকের মানসিক শান্তি লাভের আশায় আমার লেখার তরীর যাত্রা শুরু এখান থেকে।আশা করি তরী নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছুবার আগে থামবেনা। সৌভাগ্যক্রমে আমার প্রথম লেখাটা শুরু এমন এক দিনে,যেদিন স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাংগালী।
১৯৭১ থেকে ২০১০ পার হয়ে গেছে আটত্রিশ বছর। স্বাধীনতা স্বাদ সম্পূর্ণ না পেলেও পরাধীনতার গ্লানি এখন আমাদেরকে আর বয়তে হয়না।এখন কেঊ এসে পারে না ধর্মের দোহাই দিয়ে আমাদের সংস্কৃতিতে নগ্ন হস্তক্ষেপ করতে,পারে না আমাদের প্রতিবাদী কলমকে রুখে দিতে,পারে না আমাদেরকে ভাতের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে।তারপরও আমরা পৌছুতে পারি নাই সেই জায়গাতে যেখানে যেতে বঙ্গবন্ধু সপ্ন দেখতেন,সাত কোটি মানুষকে সপ্ন দেখাতেন।কিন্তু সব সপ্ন পূরণের জন্য নয় বা পূরণ করতে দেয়া হয় না।১৯৭৫ সাল এর পর থেকে দেশীয় হায়েনারা বিষ দাঁতের কামড় বসিয়েছিল বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানে,রাজাকারদের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করে দেশের মাটিকে করেছিল কলুষিত আর সাথে সাথে চালিয়েছিল অপপ্রচার।এভাবে এদেশের মানুষ হয়েছিল বিভ্রান্ত ।সরে এসেছিল নিজেদের স্বকীয়তা থেকে। আচ্ছাদিত করেছিল হায়েনাদের ছলচাতুরী।এভাবেই কেটে গেল ১৬টি বছর।

১৯৯১ সালঃ গণতন্ত্রের পথে আবার যাত্রা শুরু।আবারও স্বপ্ন দেখা শুরু।৭১ এর পর সকল বাংগালী আজ একই প্লাটফরমে।এবার আমাদের অগ্রযাত্রাকে কেঊ আর রুখতে পারবে না।
নির্বাচন ২৭ ফেব্রুয়ারী।অনেকের ধারনা ছিল ১৮ বছর পর আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসতেছে।কারন সে দলের নেতৃত্বে এখন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। কিন্তু সে ধারনা ভুল প্রমাণিত হল ২৭ ফেব্রুয়ারী রাতেয়।
বাংলাদেশের মানুষ এখনও পারে নাই অপপ্রচারের বেড়াজাল ছিন্ন করতে।যদিও আওয়ামীলীগ পেয়েছিল ৩০.০৮% ভোট যেখানে বি এন পি পেয়েছিল ৩০.৮১%।
ক্ষমতায় এসে বিএনপি হয়ে উঠল হিংস্র। চারিদিকে অস্ত্র এর ঝনঝনানি।ক্ষমতার মেয়াদ শেষের দিকে।শুরু হয় ক্ষমতা আকড়ে ধরার ষড়যন্ত্র।সাথে সাথে শুরু হয় সর্বদলীয় আন্দোলন।নেতৃত্বে যেহেতু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেহেতু এ আন্দোলন ব্যর্থ হবার নয়।
কিন্তু অপর পক্ষে আছেন আপোষহীন নেত্রীর তকমা লাগানো বেগম খালেদা জিয়া।যে কোন উপায়ে তাকে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতেই হবে।কারণ দলটির সৃষ্টি হয়েছেতো ক্ষমতার লোভ আর বিশ্বাসঘাতকতা থেকে।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী।বাংলাদেশের গনতন্ত্রের কালোদিন।বাংলাদেশের গনতন্ত্র নতুন করে চলার পথে পাঁচ বছরের মাথায় হোঁচট খেলো।কিন্তু গনতন্ত্র এর মানস কন্যা যেখানে আছেন সে দেশে গনতন্ত্র কে স্থায়ী ভাবে কেউ নস্যাৎ করতে পারবে না।
জয় হল হাসিনার এবং এদেশের আন্দোলনরত মানুষের।২৭৮ সিট নিয়েও ক্ষমতাই থাকতে পারল না বিএনপি।

১৯৯৬ সাল ১২ জুনঃ
এটি একমাত্র নির্বাচন যার ফলাফল আগে থেকেই জানা ছিল সবার।২৩ বছর পর ক্ষমতাতে আসবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। ধরাশায়ী হবে বিএনপি কিন্তু ফলাফল দেখে সবাই অবাক। বিএনপি পেল ১১৬ সিট আর ৩৩.৬০% মানুষের সমর্থন।এত কিছুর পরও মানুষ আওয়ামীলীগকে বিশ্বাস করতে পারেনি।ক্ষমতায় গেলেও আওয়ামীলীগকে সমর্থন করেছে মাত্র ৩৭.৪৪% মানুষ।
প্রধান মন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা।এর পরের আমার লেখার মত আর কিছু নাই।কারন সৃতিতে ঐ দিনগুলা সবার ই ঊজ্বল।সন্ত্রাস দমনে সফল হলেও হাজারী,ডাঃ ইকবাল এর মত নেতাদের জন্য তা ম্লান হয়ে যায়। আর সবক্ষেত্রে সফলতার চিহ্ন রাখতে সক্ষম হয়ে ছিল শেখ হাসিনার সরকার।

২০০১ :
এই প্রথম বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন সরকার শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করল। বিএনপি বুঝতে পেরেছিলো এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব না।সেজন্য জোটবদ্ধ হল । সাথে নিল ৭১ এর রাজাকারদের।আওয়ামীলীগকে হারানোর হাতিয়ার হিসাবে বেছে নিল ধর্ম কে। সারাদেশ ঢেকে গেল নোংরা পোষ্টার এ।মানুষকে সচেতন করার মত ইলেকট্রনিক মিডিয়াও ছিল না দেশে।ফলাফলঃ-নোংরা প্রচারণা মানুষকে বিভ্রান্ত করল।
তারপরও শেখ হাসিনা বিশ্বাস রাখলেন এ দেশের মানুষের উপর। নীতিতে অটল থেকে জোটবদ্ধ হলেন না কোন দলের সাথে।

পহেলা অক্টোবরঃ
দিনটির কথা এখনো মনে আছে।আমি ছাড়া বাড়ি সবাই আওয়ামীলীগ এর সমর্থক।সত্য বলতে আমি তখন রাজনীতি সম্পর্কে কিছু জানতাম না। জানার জন্য আগ্রহ ছিল কম।আমি ঘুমিয়ে পরে ছিলাম।সকালে উঠে শুনতে পারি বিএনপি জামায়াতের বিশাল বিজয়ের কথা।কিন্তু সে নির্বাচনে সত্যি কি আওয়ামীলীগ পরাজিত হয়েছিল?
যতই কারচুপির কথা বলা হোক না কেন আমি মনে করি নির্বাচন ফলাফল ঠিক ছিল।আওয়ামীলীগ হেরেছিল জোটের রাজনীতিতে ভোটের রাজনীতিতে না।এর ব্যাখা পরের লেখাগুলাতে দেবার চেষ্টা করব।

২০০১-২০০৬ :
সবার ই জানা।তাই এক কথায় বলতে চায়———–আর কোন খারাপ কাজ করতে বাকি রাখেনি বিএনপি-জামায়াত জোট—————

২০০৮ :
দিন বদলের স্বপ্ন দেখালেন শেখ হাসিনা। এ বার আর অপপ্রচারে কাজ হল না।কারন মানুষ এখন অনেক সচেতন।২০০১ এর মত ভুল করলামনা আমরা।২৯ ডিসেম্বর আমার আনন্দের দিনগুলার একদিন।৫৭% মানষের সাথে আমিও স্বপ্ন দেখলাম দিন বদলের।দৃষ্টি তখন ২০২১ সালের দিকে।ভেবেছিলাম এমন বাংলা দেখবো যে বাংলায় কেউ পাপ করবে না অথবা পাপ করে রেহাই পাবে না।
স্বপ্নের আকাশ থেকে মাটিতে নামতে আমার বেশিদিন সময় লাগেনি।আমি এখন স্বপ্নবাজ না,বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমি এখন নদীর পানিতে ভেসে যাওয়া খঁড়কুটা।আমি এখন আর আশায় বুক বাঁধিনা যে, ছাত্রলীগের কর্মকান্ড বন্ধ হয়ে যাবে।স্বপ্ন দেখিনা দুর্নীতি মুক্ত,ক্ষুদা মুক্ত বাংলাদেশের।আশা করি না হানাহানি মুক্ত রাজনীতির,স্বপ্ন দেখি না আমার উজ্বল ভবিষৎ এর।

তবে বিশ্বাস করি আওয়ামীলীগ কখনো জামায়তের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে আমাদের স্বাধিনতা কে ভুলন্ঠিত করবে না।আশা করি— “মুক্তিযুদ্ধ না ৭১ এ গৃহযুদ্ধ হয়েছিল” এ ধরনের কথা বলে ধৃষ্টতা দেখানো অমানুষগুলোর বিচার হবে।এখনো বিশ্বাস করি আওয়ামীলীগ শাসন আমলে কোন কিবরিয়া,আহসান উল্লাহ মাষ্টার কে প্রতিপক্ষের ধ্বংসাত্বক রাজনীতির কারনে জীবন দিতে হবেনা আর সনাতন ধর্মাবলীরা নিজেদের কে সংখ্যালঘু মনে করবেন না।
আরো বিশ্বাস করি এ পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আর কোন ২১ আগষ্ট আসবে না। ফুলবাড়ি,শিবগঞ্জের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে।তাদের কে আর আন্দোলন করতে হবে না। আন্দোলন করলেও এ স্বাধীন বাংলাদেশে তাদেরকে পুলিশ এর গুলি খেয়ে শহীদ হতে হবেনা।আর আশা করি শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।
২০১৪ সালে নির্বাচনে কে জিতবে জানি না।হইত শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হবেন অথবা খালেদা জিয়া ।মানুষ ভুলে যাবে ২০০১-২০০৬ কথা।এমনও হতে পারে ২০০৯-২০১৩ সাল তাদেরকে ভুলিয়ে দেবে পাঁচ বছর আগের স্মৃতি।কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া কখনো পারবেননা জামায়াতের মায়াজাল ছিন্ন করতে।হয়ত একদিন পারবেন কিন্তু সেদিন অনেক দেরি হয়ে যাবে।ধ্বংস হয়ে যাবে আমাদের স্বাধীনতার চেতনা।

হয়ত মানুষ সব কিছু ভুলে আবারো রাজাকারদের ক্ষমতায় আনবে।তখন তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রাখা আর চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না আমার। কিন্তু আমি তখনও আওয়ামীলীগ কে সমর্থন করবো।কারন—————
আমি যে নিরুপায়